নিজের বিয়ে রুখে দিল নবম শ্রেণির ছাত্রী




নদিয়া,১২ জানুয়ারি:বিয়ে রুখে দিল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিজেই। কারণ, সে এখন পড়তে চায়। নদীয়ার  ধুবুলিয়া থানার অন্তর্গত সুভাষচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের  কনিকা দাস নামে  নবম শ্রেণির এক  ছাত্রী নিজের বিয়ে রুখে দিল। কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিলান্যাস হওয়ার পরে এই কাজটি করে চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে কণিকা। তার বয়স প্রায় ১৪ বছর। সে এখন পড়তে চায়। বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি নয়। পেশায় নির্মাণ কর্মী তার  বাবা উত্তম দাস  চেয়েছিলেন এই বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিতে।




কোতোয়ালি  থানার শম্ভুনগর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে  মেয়ের বিয়ে প্রায় পাকা করেই ফেলেছিলেন। কিন্তূ বিয়ে এখনই না করে  শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে অভিনেত্রী হতে চায় কণিকা। সে বিষয়টি প্রথমে তার স্কুলের জীবনবিজ্ঞানের  শিক্ষিকা অদ্বিতীয়া দে চৌধুরীকে জানায়। ওই শিক্ষিকা তাঁর  এক সহকর্মী অপর্ণা বিশ্বাসের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর  দিদিমণিরা সিদ্ধান্ত নেয় বিষয়টি ধুবুলিয়া পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে। এরপর ওই স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যারা উদ্দ্যোগ নেয়। অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার অপকারিতা নিয়ে কণিকার  মা-বাবাকে বোঝান ধুবুলিয়া থানার ওসি অনিমেষ কুমার দে । বোঝানো হয় কনিকা আরও  পড়াশোনা করে করতে চায়।

কণিকার বাবা উত্তম দাস রাজমিস্ত্রি জোগালের  কাজ করেন। কণিকার  বিয়ে ঠিক হয়েছিল কোতোয়ালি থানার শম্ভু নগর এলাকার সুব্রত সরকার নামে একজনের  সঙ্গে। অবশেষে ব্লক প্রশাসন, ধুবুলিয়া থানার পুলিশ, কন্যাশ্রী  ক্লাব ও ওই  স্কুলের দিদিমণিদের বোঝানোর পর এই এই বিয়ে বন্ধ হয়। সব বোঝার পর  কণিকার বাবা-মা  এখন আর এই বয়সে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি নন ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!