বাড়িতে ৪ জন প্রতিবন্ধী,বহু ঘুরেও মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতা




জলপাইগুড়ি,৪ সেপ্টেম্বর:বিশ্বনাথ মন্ডল, বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দামবাড়ি এলাকায়। বিশ্বনাথ বাবুর স্ত্রী রেনু মন্ডল পাঁচ বছর আগে মারা যায়। বাড়িতে চারজন প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিনযাপন করছেন। পেশায় দিন মজুর বিশ্বনাথ বাবুর সারাদিন কাজ করলে পান ১৫০ টাকা, তাই দিয়েই পাঁচজনের প্রয়োজন মেটাতে হয়। আবার যেদিন কাজে যেতে পারেন না বা কাজ জোটে না সেদিন বাড়িতে উনুন জ্বলে না।




দরিদ্র বিশ্বনাথ বাবু আজ পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য পান নি বলে জানিয়েছেন। নেই তাঁর ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড। এরফলে জোটে নি ১০০ দিনের কাজের জব কার্ডও। কোনো রকমে ভাঙা টিনের চাল ও চারিদিকে পলিথিন দিয়ে ঘেরা দুটি ঘরে দিন কাটায় এই পরিবারটি।বাড়িতে নেই বিদ্যুৎ, এমনকি শৌচালয়ও। বাড়িতে কোন কুয়ো নেই, পাশের বাড়ি থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতে হয় বিশ্বনাথ বাবুদের। অভাবের সংসারে গত কিছুদিন যাবৎ না খেয়েই দিন কাটাচ্ছিলেন বিশ্বনাথ বাবুরা।

খবর পেয়েই গ্রীন ভ্যালি জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সদস্যরা ছুটে যায় ধুপগুড়ি। আজ বিশ্বনাথ বাবুর পরিবারের জন্য প্রায় দুমাসের খাদ্য সামগ্রী তুলে দেয় তাঁরা। চাল ডাল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নানান সবজি, ফল ও আর্থিক সাহায্য করা হয়। গ্রীন ভ্যালির তরফে প্রশান্ত সরকার জানিয়েছেন, যতদিন এই পরিবারটি সরকারি সাহায্য, প্রতিবন্ধী ভাতা না পাবে ততদিন গ্রীন ভ্যালি এই পরিবারকে প্রতি মাসে যাবতীয় খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য করবে।

অসহায় বিশ্বনাথ বাবু আজ এতো সাহায্য পেয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান, গরীব বলে আমরা কোন সাহায্য পাইনা। সরকারি বিভিন্ন দফতরে বহু ঘুরেও মেলেনি সরকারি প্রকল্পের ঘর, শৌচালয়, বিদ্যুৎ,সন্তানদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতা। কাল আমার কিছু হলে বাচ্চাদেরকে কে দেখাশোনা করবে, কে খাওয়াবে সেই চিন্তাই এখন কুরেকুরে খাচ্ছে তাকে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!