বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে যিনি অনায়াসে বিশ্ববাসীর হৃদ​য় কেড়ে নিলেন​,ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি




ওয়েব ডেস্ক,২০ জুলাই:রাশিয়া বিশ্বকাপে অনেকেই দর্শকদের মন কাড়লেন​, অনেকে আশা জাগিয়েও মন কাড়তে ব্যর্থ হলেন​, কিন্তু বিশ্বকাপের এই মঞ্চে এসে যিনি অনায়াসে বিশ্ববাসীর হৃদ​য় কেড়ে নিলেন​, তিনি নিঃসন্দেহে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের পূর্বপারে অবস্থিত ছোট্ট দেশ ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি। ভুবনমোহিনী হাসি এবং অত্যন্ত মিষ্টি প্রাণবন্ত ব্যবহারের যুগলবন্দীতে সোনালী চুলের এই নারী গত একমাসে হেলায় বিশ্বের তাবড় সেলিব্রিটিদের পিছনে ফেলে ইন্টারনেটে মোস্ট সার্চড পার্সন হয়েছেন​। তিনি সর্বত্র ক্রোয়েশিয়ার জার্সি পড়ে নিজের দলকে উৎসাহিত করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই বিপক্ষ দলেরও মন জ​য় করে ফেলেছেন​। তাঁর রুপের জাদুতে মজেননি, এমন মানুষ এই মুহূর্তে বিশ্বে বিরল​। কিন্তু শুধু কি ওই ভুবনমোহিনী রূপটুকুই তাঁর একমাত্র সম্বল​? একবারও কি ওই রূপের পিছনে লুকিয়ে থাকা নারীটির গুণ সম্বন্ধে জানতে ইচ্ছা করে না? তাঁর রূপকে ক্ষণিকের তরে পিছনের সারিতে ঠেলে দিয়ে আসুন​, একটু দেখে নেওয়া যাক এই মহিলার গুণসম্ভার​:




নাম​: কোলিন্ডা গ্রাবার কিটারোভিশ্
শিক্ষাগত যোগ্যতা: জাগ্রেব বিশ্ববিদ্যাল​য় থেকে ইংরেজি ও স্প্যানিশ সাহিত্যে স্নাতক​, সেখান থেকেই ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস্ নিয়ে স্নাতকোত্তর​, ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে প​ড়াশোনা করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা থেকে, এ ছাড়াও প​ড়েছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতেও। ২০১৫-তে ৪৬ বছর ব​য়সে দেশের প্রথম মহিলা ও সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তার যে সুন্দর দেহসৌষ্ঠবে বুঁদ হ​য়েছে বিশ্বসুদ্ধ তাব​ড় পুরুষকুল, এবার সেই তারই শারীরিক সক্ষমতা সম্বন্ধে কিছু জেনে নেওয়া যাক​। ম্যাডাম ক্রোয়েশিয়ান আর্মির একজন প্রশিক্ষিত কম্যান্ডো। বুঝলেন না তো? পাতি বাংলায় বোঝাতে গেলে বলি যে ম্যাডাম একা খালি হাতে দশ​-বিশটা মদনা-আরাবুলকে ঠেঙিয়ে পাঁঠা থেকে খাসি ও খান পনেরো রেজ্জাক সাহেবকে চাষার ব্যাটা থেকে চাষী বানিয়ে দিতে পারেন​। এখানেই শেষ ন​য়​, উনি ক্রোয়েশিয়ান আর্মির একজন অত্যন্ত দক্ষ শার্প শুটার​। কি হল​? ওনার সুন্দর চেহারার সাথে এগুলো মেলাতে পারছেন না তো।

এবার জেনে নেওয়া যাক তাঁর রাজনৈতিক জীবন সংক্রান্ত কিছু তথ্য​। ২০০৮ থেকে ২০১১ অবধি তিনি আমেরিকায় ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের পদ সামলেছেন সাফল্যের সাথে। এর পর বিশ্বে প্রথম মহিলা হিসেবে ন্যাটোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফর পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি পদে নির্বাচিত হন। ন্যাটোয় তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে SWAMBO বলে ডাকতেন​, যার অর্থ​ She Who Must Be Obeyed; পেশা ও প্রয়োজনের তাগিদে তিনি কতটা কঠিন হতে পারেন​, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ​।

আমেরিকা ও ন্যাটোয় থাকাকালীন তাঁর কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তাঁর প্রশংসা করেছেন জর্জ বুশ জুনিয়র ও বারাক ওবামা। ২০১৫-য় ভোটে জিতে তিনি ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ভারতীয় রাজনীতিবিদ্ দের মত ভুয়ো নন মোটেই, বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশকে সমর্থন করবেন বলে দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের সাথে হৈ-চৈ করতে করতে একটি সাধারণ বিমানের ইকোনমি ক্লাসের সিটে বসে চলে এলেন রাশিয়ায়​। গ্যালারিতে বসে আরাম করে ক্রোয়েশিয়া-আইসল্যান্ড ম্যাচ দেখছিলেন​, হঠাৎই তাঁকে ঘিরে ধরল ষণ্ডামার্কা একগাদা সশস্ত্র লোকের দল, যারা আসলে স্পিৎসন্যাত্স, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ভ​য়ানক রাশিয়ান কম্যান্ডো ইউনিট​। রাশিয়ান গভর্নমেন্ট যে মুহূর্তে খবর পেল যে গ্যালারিতে সাধারণ দর্শকদের জন্য পাতা আসনে এসে বসেছেন ক্রোয়েশিয়ান প্রেসিডেন্ট​, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে টপ লেভেল সিকিউরিটি টিম পাঠানো হল।

কম্যান্ডোরা তাঁকে ভিভিআইপি বক্সে যাবার জন্য অনুরোধ করল​, কিন্তু ওখানে গেলে তো দেশের জার্সি পরে খেলা দেখতে বা লাফালাফি করতে পারবেন না, পরতে হবে ফর্ম্যাল ড্রেস​, তাই গাঁইগুঁই করতে শুরু করলেন প্রথমটায়​, কিন্তু শেষমেষ কম্যান্ডোরা বুঝিয়েসুঝিয়ে কোনওরকমে নিয়ে গেলেন তাঁকে। বাকীটা ইতিহাস​। উপসংহারটুকু এখনও বাকী। সব্বার ন​য়নের মণি ম্যাডাম দিনে প্র​য়োজনমত ৫টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন​: ক্রোয়েশিয়ান​, ইংরেজি, সার্বিয়ান​, স্প্যানিশ ও ড্যানিশ​। এছাড়াও খুব ভালভাবে বোঝেন ও মোটামুটি কাজ চালাতে পারেন আরও ৪টি ভাষায়​: জার্মান​, ফ্রেঞ্চ​, রাশিয়ান ও ইটালিয়ান​। আজ্ঞে ঠিকই ধরেছেন​, গতকাল রাতে ফ্রান্স​-ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল শেষ হবার পর উনি যখন রুশ প্রিমিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাঁকরের সাথে অনর্গল কথা বলে চলেছেন​, তার পুরোটাই উনি বলছিলেন পুতিন ও মাঁকরের মাতৃভাষা রাশিয়ান ও ফ্রেঞ্চে।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!