অঙ্গনওয়ারী কর্মীর তৎপরতায় বাড়ি ফিরল শিশু




রামপুরহাট, ১১ আগস্ট: অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীর তৎপরতায় ঘরে ফিরল সাড়ে তিন বছরের শিশু পুত্র। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে বীরভূমের তারাপীঠ থানা থেকে শিশুপুত্রকে বাড়ি নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন।শিশু পুত্রের নাম হামিদুল শেখ। বাড়ি রামপুরহাট থানার বগটুই গ্রামের পশ্চিমপাড়া। বাবা সিরাজুল শেখ পেশায় ভ্যান চালক। শিশু পুত্রর মামার বাড়ি মহম্মদ বাজার থানার ভাঁড়কাটা গ্রামে। দিন কয়েক আগে তার দিদা বেড়াতে এসেছিল।




ঠিক হয় শনিবার সকালে মা ও দিদার সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে যাবে হামিদুল। সেই মতো সকালেই ছেলেকে ভালো পোশাক পড়িয়ে তৈরি হচ্ছিলেন মা ও দিদা। ইতিমধ্যে ছোট্ট হামিদুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা দেয়। বাড়ির কাছেই রামপুরহাট বাস স্ট্যান্ড। ফলে সে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে রামপুরহাট-বুধিগ্রাম রুটের বাসে উঠে বসে। বাস বুধিগ্রাম পৌছলে সমস্ত যাত্রী নেমে যায়। কিন্তু নির্বিকার ভাবে হামিদুল বসেছিল। সে সময় বুধিগ্রাম অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের কর্মী বাসিরা বেগম ওই বাসে ওঠেন বাড়ি ফেরার জন্য। তিনি শিশুপুত্রকে একা দেখে পরিচয় জানতে চান। কিন্তু হামিদুল নির্বিকার হয়ে যায়।

বাসিরা বলেন, “আমার বাড়ি সন্ধ্যাজোল। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার জন্য বাসে উঠি। দেখি একটা শিশু চুপচাপ বসে রয়েছে। অনেক প্রশ্ন করেও যখন কোন উত্তর পেলাম না তখন আমি বসোয়া হাসপাতালের চিকিৎসক উৎপল হাজরাকে ফোন করি। তিনিই আমাকে তারাপীঠ থানাতে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মতো আমি তারাপীঠ থানাতে শিশুটিকে পৌঁছে দিই”। এদিকে হামিদুলের খোঁজে পাগলের মতো ঘুরতে থাকে পরিবারের সদস্যরা।

তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তা মনসুবা মোড়ে একজনের কাছে জানতে পারেন তারাপীঠ থানায় এক শিশুকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে। তারপরই তারাপীঠে থানা থেকে হামিদুলকে বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। বাবা সিরাজুল শেখ বলেন, “মামার বাড়ি যাওয়ার আনন্দে ছেলে একাই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিল তার মা দিদা বোধ হয় বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাড়ির লোকেদের তাকে নজরে রাখা উচিত ছিল। ওই অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী না দেখলে কি যে হত”।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!