যাদের কাজকর্ম নেই তারাই ধর্মঘট ডাকে : মুখ্যমন্ত্রী




দার্জিলিং, ১২জুলাই: চা বাগান ধর্মঘট নিয়ে জয়েন্ট ফোরামের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদের কাজকর্ম নেই তারাই ধর্মঘট ডাকে। আমি তা সমর্থন করি না। এমনকি বিনয় তামাং, মন ঘিসিংরাও করে না। বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় চা বাগান নিয়ে বৈঠক করার পর সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি চাই চা বাগানের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। তার জন্য একটি এক্সপার্ট কমিটি তৈরী করা হয়েছে। তারা তিনমাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।




চা বাগান শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরীর দাবীতে আগামী ২৩,২৪ ও ২৫ জুলাই ধর্মঘট ডেকেছে বিরোধীদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরাম। এরপর শ্রম দফতর তাদের সঙ্গে বৈঠক করেও ধর্মঘট তুলতে পারেনি। এবার উত্তরবঙ্গ সফরে শেষে যাওয়ার আগের দিন চা বাগান নিয়ে বৈঠক করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি সকলকে জানিয়েও দেন যে ধর্মঘটের বিপক্ষে তাদের প্রচার করতে হবে। কোনও ভাবেই যাতে ধর্মঘট না হয় তাও দেখতে হবে।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। আমরা চাই বাগানের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। কিন্তু কোনও কোনও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের নামে ধর্মঘট ডাকে, অবস্থান বিক্ষোভ করে। কিন্তু তারা কেউ স্থায়ী সমাধানের জন্য চিন্তা করে না। এর আগে ২০১৬ সালে ডানকান গ্রুপ ৭টি বাগান অধিগ্রহণ করবে বলে জানায় কেন্দ্র সরকার কিন্তু এখনও তা হয়নি। তারা এসব মিথ্যা কথা বলে নির্বাচনের সময় ভোট নিয়েছেন। এখন আবার মালিকদেরও বাঁচিয়ে যাচ্ছে। তারা আদালতে গিয়ে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার তাদের বাগান অধিগ্রহণ করেছে তাই তারা বাগান পরিত্যক্ত বলে চলে গিয়েছে। তারাও খুলছে না আর আমরাও খুলতে পারছিনা কারণ তারা আদালতের নোটিশ দেখাচ্ছে।

 

 

কেউ কেউ একসঙ্গে দুই তিনটা বাগান খুলে চালাতে না পেরে বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়েন শ্রমিকরা তাই আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য মুখ্যসচিবের অধীনে একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তিনমাসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে স্থায়ী সমাধানের জন্য”। শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী নিয়ে তার বক্তব্য, বাম আমলে শ্রমিকদের ১ টাকা ২টাকা বাড়ত। আমরা এসে তাদের বেতন বাড়িয়েছি। আর ন্যুনতম মজুরী নিয়েও আমাদের আলোচনা চলছে। যারা পিএফ, গ্র্যাচুইটি দিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে। যে বাগান বন্ধ তার লিজ বাতিল করে অকশন করে দেবো। বাগানে যারা বেকার রয়েছেন তাদের কাজে লাগাতে তাদের স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হবে।তারা যাতে নিজেরা কাজ করতে পারে। ১৫মাসের মধ্যে স্থায়ী সমাধান হবে। চা বাগানের জমি টি ট্যুরিজমের কাজেও লাগানো হবে”। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক, পুর্ত মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস, পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, বিনয় তামাং, মন ঘিসিং সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!