জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি প্রাথমিক শিক্ষা সংগঠনের







বালুরঘাট, ২২ ফেব্রুয়ারি: নিজের ইচ্ছেমতো ছয় শিক্ষককে বদলি করেছিলেন জেলা স্কুল পরিদর্শক(প্রাথমিক)। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চেয়ারম্যান ছাড়াই চলছে দক্ষিণ দিনাজপুর প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবিতে এবার সরব হল এবিপিটিএ সহ অন্যান্য প্রাথমিক শিক্ষা সংগঠনগুলি। চেয়ারম্যান না থাকায় শিক্ষক বদলি সহ অন্যান্য সমস্যাগুলি থেকেই যাচ্ছে। চেয়ারম্যান থাকলে এই সমস্যাগুলির সুরাহা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এবিপিটিএর জেলা সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ।




 

জানা গিয়েছে, সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে শিক্ষকদের বদলি করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সপ্তাহখানেক আগে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক নিজের ক্ষমতা জাহির করেন। প্রভাবশালীদের কথায় তাদের ঘনিষ্ঠ ছয় শিক্ষককে বাড়ির কাছের স্কুলে বদলিও করা হয়। যদিও এই বিষয়ে শিক্ষক সংগঠনের লাগাতার আন্দোলন ও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে ছয় শিক্ষকের বদলি বাতিল করা হয়। এদিকে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাড়ি থেকে বহু কিলোমিটার দূরের স্কুলে চাকরি করতে আসা কোনো শিক্ষকদের বদলি করা হচ্ছে না। এছাড়াও অবসরের পর পেনশন সহ অন্যান্য একাধিক সমস্যা রয়েই গেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে।




দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংসদে কোনো চেয়ারম্যান নেই। চেয়ারম্যান না থাকায় আটকে রয়েছে বদলি। এর আগে বেশ কয়েকবার বদলির জন্য আবেদন নেওয়া হলেও শেষ অবধি তা আর কার্যকরী হয়নি। তাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংসদে চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ। পাশাপাশি একই সঙ্গে ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের বদলির দাবিও রেখেছেন তারা।




প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় রয়েছে ১১৮৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলিতে মোট শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ৪৫৯৯ জন। সরকারি নিয়মানুযায়ী ৩০ জন ছাত্র পিছু ১ জন শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু মিড ডে মিল এবং অফিসের নানা কাজের প্রয়োজনে ৩০ জন ছাত্র থাকলেও সর্বনিন্ম ২ জন শিক্ষক আবশ্যক। কিন্তু দেখা গিয়েছে অনেক পড়ুয়া থাকা সত্বেও জেলার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দ্বারা চলছে পঠন পাঠন। আবার কোনো বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কম থাকলেও শিক্ষক রয়েছে অনেক বেশি। ফলে পরিকাঠামোর অভাবে লাটে উঠেছে পড়াশোনা।




এবিষয়ে এবিপিটিএ-র জেলা সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর প্রাথমিক শিক্ষক সংসদে নেই কোনো চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানহীন অবস্থায় চলছে সংসদ। ডিআই দায়িত্বে থাকলেও চেয়ারম্যান না থাকায় নানান সমস্যায় পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষকরা। বিশেষ করে বদলি, অবসরের পর পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এইসব সমস্যা রয়েই যাবে যদি চেয়ারম্যান নিয়োগ না করা হয়। তাই তারা সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংসদের চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি তুলেছেন।








You May Also Like

error: Content is protected !!