মালদায় দিনের আলোতে রাজ্য ও কেন্দ্রের মাটি লুট, মাফিয়াদের দাপটে আতঙ্কে গ্রামবাসী







মালদা, ১১ মার্চ: জমি মাফিয়াদের দাপটে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জমি হচ্ছে লুট। সশস্ত্র জমি মাফিয়াদের দাপটে আতঙ্কে কাঁপছে গ্রামবাসীরা। পুলিশ, প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের মদত ছাড়ায় কিভাবে দিনের পর দিন রেল, ভূমি এবং ফারাক্কা ব্যারেজের জমির মাটি বিপদজনকভাবে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবুও থামানো যায়নি এই বেআইনি কাজ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে কার বা কাদের মদতে এই বিপদজনক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জমি মাফিয়ারা?





 

মালদার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন কালিয়াচক। বেশ কিছুদিন ধরেই কালিয়াচক থানা এলাকার খালতিপুর জামিরঘাটা রেলস্টেশন সংলগ্ন জমি থেকে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় প্রায় ৪ থেকে ৫টি জেসিপি মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দিচ্ছে জমি মাফিয়ারা। এই কাজে প্রতিদিন লাগানো হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক্টর। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার মাটি। এতকিছু প্রকাশ্যে দিনের আলোতে হলেও কোনও এক অদৃশ্য জাদু বলে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের প্রশাসন নিরব। তবে এই সমস্ত ঘটনার কথা জেলার পুলিশ সুপার, জেলাশাসক এবং মালদা রেলওয়ে ডিভিশনের ম্যানেজারকে লিখিতভাবে জানিয়ে অবিলম্বে এই বেআইনি, বিপদজনক কাজ বন্ধ এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক ঈশা খান চৌধুরী।




কিভাবে চলছে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে এই সাম্রাজ্য? স্থানীয় তৃণমূল নেতার অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে সীমান্ত পাড়ের দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় নেতা থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই জানেন স্থানীয় বাসিন্দা মুন্নু হাজি আর সাহাবুদ্দিনের নাম, যাদের মেশিন দিয়েই চলছে এই বেআইনি কাজ। প্রতিদিন সরকারি মাটি ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে গ্রামের ভেতর পাকা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটা, জলাজমি আর বাড়ি তৈরির কাজে। গাড়ি প্রতি দর ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এইসব প্রায় সকলেই জানেন। জানেন না কেবল পুলিশ প্রশাসন।

দিনের পর দিন রেলের মাটি চুরি করে বিক্রি হচ্ছে; চোখে দেখছেন; জানেন; তবুও আমাদের ক্যামেরার সামনে ব্যর্থ দায় এড়ানোর চেষ্টা জামিরঘাটা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার এ কে বাস্কের।




রেল এবং ভূমি দপ্তরের জমি এভাবে প্রকাশ্যে কেটে নেওয়ায় যে কোনও সময়েই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে রেল দুর্ঘটনারও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনের একটা অংশের মদতেই একাজ চলছে বলে অভিযোগ মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের। তার অভিযোগ, এই সরকারের আমলে রাজনৈতিক নেতা থেকেও বেশি প্রশাসন এবং আমলারা দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।








You May Also Like

error: Content is protected !!