বালুরঘাটের ধাউলে ডাইনি সন্দেহে ‘এক ঘরে’ পরিবার, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আর্জি







বালুরঘাট, ৩ জানুয়ারিঃ ডাইন সন্দেহে একঘরে হয়ে রয়েছে এক আদিবাসী পরিবার। আদিবাসী ওই দম্পতির তিন স্কুল পড়ুয়া মেয়ে ভয়ে স্কুলে যেতে না পাড়ায় বন্ধ পড়াশোনাও। গত এক মাস ধরে একঘরে থাকার পর গত সপ্তাহে এক সালিশি সভায় ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হয়।







মৃত্যু ভয় তারা করায় বাড়ি থেকে বেরোতে পারছে না ওই পরিবার। বালুরঘাট থানা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ধাউল গ্রামের ঘটনা। ওই পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয় প্রধানকে জানালে, তিনি বালুরঘাট থানায় অভিযোগ জানাতে বলেন। কিন্তু মৃত্যু ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি ওই দম্পতি।




জানা গেছে,পেশায় দিনমজুর রবীন হাঁসদা ও তার স্ত্রী দুলালী সোরেন বালুরঘাট থানার চকভৃগু গ্রাম পঞ্চায়েতের ধাউল গ্রামের বাসিন্দা। তাদের এক ছেলে ভিনরাজ্যে কাজ করে। তিন মেয়ে স্থানীয় স্কুলে পড়ে। দুলালী সোরেন বাড়িতে পুজো পাঠ করেন। এদিকে গ্রামে কয়েক জন অসুস্থ হওয়ায় দুলালীকে ডাইন বলে সন্দেহ করা শুরু করে গ্রামের লোকজন। ফলে প্রায় এক মাস ধরে এক ঘরে হয়ে রয়েছে ওই পরিবার।




বাইরে বেরোনো সহ শেফালী, বিজলী, গোলাপি নামে তিন মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এরপর সালিশি সভায় দুলালীকে ডাইন চিহ্নিত করায় মৃত্যু ভয়ে দিন কাটছে ওই পরিবারের সদস্যদের। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিষয়টি জানানোর পর এলাকায় যান বালুরঘাটের জয়েন্ট বিডিও রত্নজিত দাস ও বালুরঘাট থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিশ নজর রেখেছে ওই পরিবারের উপর। তবুও আতঙ্কে রয়েছে ওই আদিবাসী দম্পতি পরিবার।




এবিষয়ে দুলালী সোরেন জানান, গ্রামের সবাই বলছে সে নাকি ডাইনি। তাই তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে। এমনকি তাদের এক ঘরে করে দেওয়া হয়েছে। তারা এখন আতঙ্কে দিন কাটাছেন। মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ করে খেতে হয় তাদের। ভাল ভাবে বাঁচতে চান তিনি।




দুলালীর মেয়ে শেফালী হাঁসদা জানান, তারা একাই কোথাও যেতে পাড়ছেন না। তার মাকে সবাই ডাইনি বলছে। গ্রামের কেউ ভাল করে কথাও বলে না।




অন্য দিকে এবিষয়ে বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ জানান, বিষয়টি জানার পর ওই পরিবারের উপর নজরে রাখা হয়েছে।,








You May Also Like

error: Content is protected !!