কুলিং জ্যাকেট আবিষ্কার, রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাক পেল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রূপম




হুগলি, ৩১ মে :বাঙালি বিজ্ঞানীর আবিষ্কার কুলিং জ্যাকেট। তাই নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাকে নিউইয়র্কে গ্লোবাল স্টেম সামিটে সামিল হচ্ছে হুগলির রূপম।কুলিং জ্যাকেট আবিষ্কারক এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।




জানা গিয়েছে, ভদ্রেশ্বর থানার আলতারা গ্রামের তরুণ এই বিজ্ঞানী রূপম ঘোষ। সে এবারে চন্দননগর বঙ্গ বিদ্যালয়ের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বর্তমানে উচ্চ শিক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈব প্রযুক্তি দপ্তরে আবিষ্কারক হিসাবে ডঃ মহুয়া হোম চৌধুরীর তত্বাবধানে কাজ করছেন রূপম। ছোটোবেলা থেকেই স্কুলের সায়েন্স এগজিবিশানে বিভিন্ন মডেল বানানোর নেশা ছিল রূপমের। ২০১৭ সালে এভাবেই কুলিং জ্যাকেট বানিয়ে ফেলে সে।

যার পোষাকি নাম দেয় “বিট দ্য হিট কুলিং জ্যাকেট”। জ্যাকেট আবিষ্কার করে ২০১৭ সালে জাতীয় পুরষ্কার পায় সে। ইতি মধ্যেই এই জ্যাকেটের পেটেন্ট পেয়েছে রূপম। এই আবিষ্কার তাকে আমেরিকার অ্যাকাদেমি অফ সায়েন্সের সাম্মানিক সদস্য পদও দেয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাকে আগামী ২৫শে জুলাই গ্লোবাল স্টেম সামিট ২০১৮ তে যোগ দিতে যাবে রূপম। সারা বিশ্বের ১৮০০০ বিজ্ঞানীর মধ্যে ১৮০ জনকে বেছে নেওয়া হয়। ভারতে তিনজনের মধ্যে তরুণ বিজ্ঞানী সুযোগ পায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রূপম সহ আর দু’জন বেঙ্গালুরু থেকে। রূপমের প্রথম আবিষ্কার অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পর আরও পালিশ হয়ে এখন সাধারণ মানুষের হাতে আসার অপেক্ষা।

রূপম তার আবিষ্কার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জানায়, খুব সাধারণ প্রযুক্তিতে ছোট পাখার সাহায্যে জলের বুদবুদ (ওয়াটার বাবল) কে কাজে লাগিয়ে সারা শরীরকে ঠাণ্ডা রাখবে এই জ্যাকেট। ছোট ব্যাটারি দিয়ে চলবে গোটা সিস্টেম। টুপিতে থাকা সোলার প্যানেল থেকে চার্জ নিয়ে চলবে ব্যাটারি। রক্ষণাবেক্ষণের কোনও খরচ নেই। নোংরা হলে ধোয়াও যাবে এই জ্যাকেট। দাম হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। প্রখর রোদে ঘুরে কাজ করতে হয় অনেক কেই।

কলকারখানার শ্রমিক, কৃষকরাও রোদে শরীরে দিয়ে কাজ করেন। ফলে অনেক সময় গরমে কাজ করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সান স্ট্রোকে মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে কুলিং জ্যাকেট পাওয়া যায়, তবে তা খুবই দামি, বিদেশি এই সব জ্যাকেট কিনতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও দামের জন্য কেনার উপায় থাকে না। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে কুলিং জ্যাকেট তৈরি করে ফেলেছে। তার মানুষের কাছে আবেদন মানুষ ব্যবহার করলে সে আরও নতুন চিন্তা ভাবনা করার কথা ভাবে মানকুণ্ডু আলতারার রূপম ঘোষ।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!