২৫ লক্ষ টাকা লুঠ করে চম্পট দুষ্কৃতী




চাঁচল, ৫ ফেব্রুয়ারিঃ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা অফিসে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় গাড়ি আটকে রক্ষীর বন্দুক লুঠ করে ২৫ লক্ষ টাকা লুঠ করে পালাল দুষ্কৃতীরা। আতঙ্ক ছড়াতে দুষ্কৃতী শূন্যেও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সোমবার ভরদুপুরে মালদহের চাঁচলের সন্তোষপুরগামী রাস্তার উপরে ভীমপুরে ওই ঘটনার জেরে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার পরেই স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও এলাকায় যান মালদা রেন্জের ডিআইডি সুজিত সরকার, পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ। কিন্তু দুষ্কৃতীদের হদিশ মেলেনি। তবে মহানন্দার ওপারে লাগোয়া বিহারের মিঠাপুর এলাকা থেকে টাকার খালি বাক্সটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদলটি বিহারের বলেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ পুলিশের।
জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। দুষ্কৃতী দলটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।




 

চাঁচল স্টেট ব্যাঙ্কের মূল শাখা থেকে টাকা নিয়ে সন্তোষপুর শাখায় যাচ্ছিল গাড়িটি। গাড়িতে চালক জয়দেব ঘোষের পাশেই বসে ছিলেন রক্ষী রূপক কুমার পাণ্ডে। পিছনে রাখা টাকা ভরতি টিনের বাক্সের পাশে ছিলেন সন্তোষপুর শাখার ক্যাশিয়ার কুনাল চৌধুরী। ওই সময় ভীমপুরে আমবাগানের কাছে ফাঁকা জায়গায় হঠাৎ করেই গাড়ির সামনে এসে পড়ে দুষ্কৃতী দলটি। রাস্তা খারাপ থাকায় গাড়িটি ধীরগতিতেই ছিল। দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ছাড়াও নম্বরপ্লেটে এমনভাবে কাদা লাগানো ছিল যাতে স্পষ্ট বোঝা না যায়। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে টাকার বাক্স হাতিয়ে দুষ্কৃতীদলটি ফের মহানন্দাবাঁধের দিকেই পালিয়ে যায়।




কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ”প্রথমে দূর থেকে ভাবি যে গাড়িটি আটকে যাওয়ার ফলে তারা গাড়িটিকে ধাক্কা দিচ্ছে ! পরে কিন্তু গুলির শব্দে বুঝতে পারি অন্য ঘটনা। তখন অন্যেদর কাছে জানতে পারি যে দূরে আরও কয়েকজন বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যাতে কেউ রাস্তা দিয়ে না যেতে পারে। দিনের বেলায় যে টাকা লুঠ হচ্ছে ভাবতেই পারিনি।”




পরে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় মিঠাপুর এলাকা থেকে খালি বাক্সটি উদ্ধার করে পুলিশ। দুষ্কৃতী দলটি সেখানে বসে টাকা ভাগ করে বলেও প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে। সন্তোষপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার রন্জিত মাহাতো বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে ঘটনার জেরে রক্ষী রূপকবাবু বলেন, দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মোকাবিলা করার সুযোগই পায়নি। ওরা আচমকা বন্দুক কেড়ে নিয়ে মোবাইন ফোনগুলোও কেড়ে নেয়।




মালদার ব্যাঙ্কসমূহের লিড ম্যানেজার বিশ্বজিত ঘোষ বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে! ফলে আমরা কোনও মন্তব্য করব না।

অন্য দিকে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের মালদা রিজিওনের রিজিওনাল ম্যানেজার অজয় কুমার সিংহ এদিন জানান, ” খবর পেয়ে আমাদের লোকজন ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিষয়টি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর চেয়ে আর কিছু বলা যাবে না। “








You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!