আনন্দমার্গ আবাসিক স্কুলের ৩ কিশোর স্কুল থেকে পালিয়েও উদ্ধার




জলপাইগুড়ি,২১ আগস্ট: জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি পাড়ায় আনন্দমার্গ আবাসিক স্কুলের ৩ কিশোর স্কুল থেকে পালিয়েও উদ্ধার। আবাসনের শিক্ষক তাদের মারধোর করে।তাই তারা এদিন স্কুল থেকে পালিয়েছে। যদিও পরে শহরের টাউন ক্লাব সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার।কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।




আজ সকাল ১১টা নাগাদ তিনটে কিশোর কে জলপাইগুড়ি টাউন ক্লাব সংলগ্ন হাকিমপাড়ায় উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর তিনজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে শুভজিৎ পাল, শিবনাথ বিশ্বাস ও বাসুদেব বিশ্বাস জলপাইগুড়ি রাজবাড়ী পাড়ার আনন্দ মার্গ আবাসিক স্কুলের তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। তিনজনের মধ্যে শুভজিতের বাড়ি শিলিগুড়ি আর বাকি দুজনের বাড়ি মাথাভাঙ্গায়। স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা ঘোষ জানান, ছেলেগুলো রেল স্টেশনের খোঁজ করছিল শিলিগুড়ি যাবে বলে। তাদের গায়ে স্কুল ইউনিফর্ম ছিল না, কিন্তু কোমরে স্কুলের বেল্ট ছিল সেটা দেখেই তার সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছেলে তিনজন জানায় স্কুলের সৌরভ নামের একজন তাদের মারধোর করে। এরপর বাচ্চাগুলোকে বসিয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাচ্চা তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অন্যদিকে যার বিরুদ্ধে এই বাচ্চা তিনজন মারধোর করার অভিযোগ করেছে সেই সৌরভ দে আনন্দ মার্গ স্কুলের প্রিন্সিপালের অনুপস্থিতিতে স্কুল ও হোস্টেলের দ্বায়িত্ব সামলে থাকে। ছোট থেকেই সে আনন্দ মার্গে থেকে পড়াশোনা করে। আজ সকালেও সে বিশেষ কাজে কলেজে গিয়েছিল। কলেজ থেকে ফিরে এসে সে জানতে পারে তিনজন ছাত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। সৌরভ জানায়, সে ওদের মারধোর করে না, বোঝায়। কালকেও সামনের রাজবাড়ীর মেলায় নিয়ে গিয়েছিল ঘোরাতে। এমন কাজ ওরা কেন করলো সেটা সে বুঝতে পারছে না।

স্কুলের প্রিন্সিপাল আচার্য শুভ মিত্রানন্দ অবধূ জানান, তিনি কলকাতা গিয়েছিলেন। আজ সকালেই ফিরেছেন। ফিরেই শোনেন এই ঘটনা। তারপর দ্রুত তিনি নিজের মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়ে যান ছেলেদের খুঁজতে। তিনি জানান, বর্তমানে তাদের স্কুলের হোস্টেলে ১৩জন আবাসিক থাকেন বিভিন্ন বয়সের। আর সৌরভ বাচ্চাদের মারধোর করেছে সেটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি জানান, হয়তো বাচ্চাদের সাথে কোন কারনে সৌরভের মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু সৌরভ ভালো ছেলে। ও বাচ্চাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, ওদের ভালো রাখার চেষ্টা করে। বাচ্চারা কেন এমনটা করলো সেটা ওদের সাথে কথা না বললে তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান।

জানা গেছে, এই স্কুলের হোস্টেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো ঘটে নি। এবারই প্রথম। ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার দুলাল সেন জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি আজ প্রার্থনার সময় ওই তিনজন ছিল, তারপর থেকেই ওদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হাকিমপাড়া থেকে বাচ্চাগুলোকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় রেখেছে। তাদের অভিভাবকদের আসার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে। মারধোর করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেরকম কিছু হলে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা চলবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!