বাড়তি পণের দাবি জামাইয়ের,স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা




মালদা, ১৮জুলাই: বাড়তি পণের দাবি জামাইয়ের।আর্থিক অনটনে দিতে না পারায় স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার চাঁচল থানার হাটখোলা গ্রামে।বর্তমানে আক্রান্ত গৃহবধূ মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনও পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বধূর পরিজনেরা।তবে আজই অভিযোগ দায়ের করা হবে থানায় বলে জানিয়েছেন বধূর বাবার বাড়ির সদস্যরা।




জানাগেছে,গৃহবধূর নাম নাম ফারহানা নাসরিন(২৩)। চাঁচল থানার মোবারকপুর গ্রামে বাবারবাড়ি।পরিবার সূত্রে জানাগেছে,আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত গরিব পরিবার।পাঁচ বছর আগে পাত্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী পণ সংগ্রহ করে মেয়ের বিবাহ দিয়েছিলেন হাটখোলা গ্রামের সাহিন আহমেদ এর সাথে। সাহিন ভিনরাজ্যে শ্রমিক পাঠানোর ঠিকাদারের কাজ করেন।কিন্তু সম্প্রতি সে কোনও কাজই করছে না। তাদের ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। দিনকয়েক ধরেই সাহিন আর তার পরিবারের লোকেরা বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বধূ সেই টাকা আনতে অস্বীকার করে। এনিয়ে স্বামী সাহিনের সঙ্গে স্ত্রীর ঝামেলা চলছিল। মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে তৃতীয় বিবাহের পরিকল্পনা রয়েছে সাহিনের বলে অভিযোগ।

গৃহবধূর কাকু লিটন শেখ বলেন,” ফের বিবাহের পরিকল্পনা করেছিল সাহিন। তাঁর ভাতিজির সঙ্গে সাহিনের দ্বিতীয় বিবাহ। ভাতিজিকে খুন করে সে আবার বিবাহ করার চেষ্টায় ছিল। সেই মতো ফারহানাকে ২ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দিত। তবে তাঁরা সাহিনকে ছাড়বেন না।এদিন বিকেলেই চাঁচল থানায় তাঁরা এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে চলেছেন বলে জানান তিনি”।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাটখোলা গ্রামবাসীদের ফোন করে বাবার বাড়তে জানান ঘটনা।মারধরের পর গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে খুন করার ছক ছিলো স্বামী সাহিন।খবর পেয়েই মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ছুটে যান। সেই অবস্থায় মেয়ে জানায়, বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা আনতে অস্বীকার করায় গতকাল দুপুর থেকেই তাঁকে মারধর করছিল সাহিন ও তার মা। গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে গৃহবধূ কোনও রকমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে চিৎকার শুরু করে।সেই চিৎকার শুনেই পাড়ার লোকজন ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় সাহিন। পরে আক্রান্ত বধূকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান বাবার বাড়ির লোকজন। রাতে তাকে মালদা মেডিকেলে রেফার করে দেওয়া হয়।বর্তমানে সেখানেই চলছে চিকিৎসা।




You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!