মকর সংক্রান্তিতে লক্ষ ভক্তের পূর্ণ স্নান জয়দেবের অজয় নদীতে




বীরভূম,১৫ জানুয়ারি অজয় নদের তীরে জয়দেব মেলা। মকর সংক্রান্তিতে এই মেলার গুরুত্ব যতটা ঐতিহ্যের বিচারে ঠিক ততটাই গুরুত্ব ধার্মিকতার আঙ্গিকেও। মকর সংক্রান্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে। মকর সংক্রান্তির সেই ভোরে মানুষের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় মেলা কমিটি থেকে প্রশাসন সকলকেই। উপচে পড়া ভিড় মকর সংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই চোখে পড়ে অজয়ের তীরে। আনাচে কানাচে গড়ে ওঠে বাউল আখড়া, হরিনাম কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে অজয়ের এপ্রান্ত ও অপ্রান্ত।




অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটে আজ ভোর রাত থেকেই লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে ভরে উঠল অজয় তীরে কেন্দুলি। তিনদিনের মহা মিলন উৎসব শুরু হলো জয়দেব ধামে। দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা চারদিন আশ্রমে আশ্রমে কাটান, এছাড়া বাউল, লোকগীতি, হরিনাম কীর্তন গানতো থাকেই। সব মিলিয়ে তিন দিন তিন রাত জমজমাট হয়ে উঠে মেলা। আজ ভোর রাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষেরা সেড়ে নিলেন মকরের পুণ্য স্নান।

জয়দেব মেলা সম্পর্কে ইতিহাসের দিকে চোখ রাখলে জানতে পারা যায়, কথিত আছে কবি জয়দেব মকরস্নানের জন্য প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে কাটোয়ার গঙ্গায় রওনা দিতেন। কিন্তু মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতা এতটাই বেশি ছিল যে সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাটোয়ায় যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তখন তিনি রাতে স্বপ্ন দেখেন তাঁর জন্য মা গঙ্গা উজান বেয়ে অজয় নদে এসে মিলিত হবেন। তাই অজয় নদে স্নান করলেই গঙ্গাস্নানের ফল পাবেন কবি জয়দেব। এই কাহিনি থেকেই মকর সংক্রান্তিতে কেন্দুলির মেলাকে বাঙালিরা উৎসর্গ করেছেন কবি জয়দেবের স্মৃতি তর্পণে।

বীরভূম ও বর্ধমান জেলার মধ্যবর্তী বরাবর বয়ে চলেছে অজয় নদ,এই মেলায় প্রাচীন ইতিহাস বা ঐতিহাসিক কাহিনী মেনে এই একবিংশ শতকেও মেলাতে সমাগম হয় লক্ষাধিক মানুষের। ঐতিহাসিকদের মত অনুযায়ী গঙ্গা বোধে অজয়ে মকরস্নান উপলক্ষেই এই মেলার সূচনা হয়েছিল সুপ্রাচীন কালে, পরে তার সঙ্গে যুক্ত হয় জয়দেবীয় ঐতিহ্যধারা। যা থেকে ওই মেলা রূপান্তরিত হয় জয়দেব মেলায়। কেন্দুলির জয়দেবের মেলার গুরুত্ব এখানেই যে, এই মেলাই সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মেলা, যেখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের এক বিচিত্র সমাবেশ ঘটে। বিশেষত সমাজের বিদ্বজ্জনের উপস্থিতি এখানে লক্ষ্য করার মতো।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!