রোজভ্যালি কাণ্ডে এবার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে গ্রেপ্তার করল সিবিআই

ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘক্ষণ জেরার পর রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ আরেক সাংসদ তাপস পালকে গ্রেপ্তার করার চারদিন পরই সুদীপকে গ্রেপ্তার করায় ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য৷ তৃণমূল সাংসদের থেকে একাধিক প্রশ্নের উত্তর পাননি সিবিআই আধিকারিকরা৷ কথায় অসঙ্গতির কারণেই লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷

সূত্রের খবর, সুদীপের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের হাতে এসেছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য৷ রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুই জেরায় প্রথম তাপস পাল এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেছিলেন৷ সেই ভিত্তিতে ডিএলএফ বিল্ডিংয়ে তল্লাশি চালিয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা৷ সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল রোজভ্যালি সংক্রান্ত একাধিক নথিপত্র৷ যাতে উল্লেখ ছিল সুদীপের নামেরও৷ হাতে এসেছিল কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক৷ বিগত ছ’মাস ধরে সেসব তথ্য খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পারেন রোজভ্যালির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগ ছিল রাজ্যসভার সাংসদের৷ জানা যায়, সস্ত্রীক ইউরোপ ভ্রমণের খরচ দিয়েছিল রোজভ্যালি৷

দীর্ঘ টালবাহানার পর মঙ্গলবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন সুদীপ৷ সেখানেই টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে৷ এদিন সিবিআইয়ের ৫ জন আধিকারিক তাঁকে জেরা করেন। জানতে চাওয়া হয়, গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে কীভাবে পরিচয় হয়েছিল তাঁর? রোজভ্যালি কর্তাকে সাহায্যের জন্য একবার চিঠি দিয়েছিলেন সুদীপ৷ সেই চিঠি কেন দিয়েছিলেন তাও জানতে চান বলে খবর৷ পাশাপাশি সুদীপ ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন চাকরিও পেয়েছিলেন রোজভ্যালিতে৷ তার পরিবর্তে কি রোজভ্যালির ব্যবসা প্রসারে সাহায্য করেছিলেন সুদীপ? এমনই একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরা হয় তাঁর সামনে৷ প্রথম দফায় বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি তিনি৷ দ্বিতীয় দফায় ফের তাঁকে সেই প্রশ্নগুলি করা হয়৷ কিন্তু সুদীপের উত্তরে সন্তুষ্ট হননি গোয়েন্দারা৷ তাঁর কথায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়৷ ফলে তাঁকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়৷

ছবি ও সংবাদ,সৌজন্যে সংবাদ প্রতিদিন


You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *