রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেপ্তার তৃণমূল সাংসদ তাপস পাল

ওয়েব ডেস্ক: রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল সাংসদ তাপস পাল৷ সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় জানতে তিনদিন আগেই সমন পাঠিয়েছিল সিবিআই৷ সেই মতো শুক্রবার সস্ত্রীক সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তাপস৷ টানা চার ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নিলেন তদন্তকারী অফিসাররা৷

রোজভ্যালি কাণ্ডে তদন্তে নেমে তাপস পাল সংক্রান্ত একাধিক তথ্য হাতে উঠে আসে সিবিআইয়ের৷ জানা যায়, সংস্থার একটি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন তিনি৷ অ্যাকাউন্টস বিভাগের কর্মচারীদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে৷ এমনকী নগদেও বিপুল পরিমাণে অর্থ দেওয়া হত তাপসকে৷ পাশাপাশি সংস্থা থেকে নানা সুযোগ সুবিধাও পেতেন তিনি৷ ঠিক কেন এত সুবিধা দেওয়া হত তাপসকে, কেনই বা নগদে টাকা নিতেন তিনি, এসবই তাপসের থেকে জানতে চান গোয়েন্দারা৷ তাঁকে রোজভ্যালি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিও নিয়ে যেতে বলা হয়৷ সে সব খতিয়ে দেখেই তাপসের সঙ্গে রোজভ্যালির সম্পর্কের হদিশ পেতে চাইছিলেন গোয়েন্দারা৷ আর্থিক লেনদেনের বৈধতাও খতিয়ে দেখা হয়েছে৷ সূত্রের খবর, রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক ছিল তাঁর৷ একাধিকবার বৈঠক হয়েছে তাঁদের মধ্যে৷ ঠিক কী বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হত তারও নাগাল পেতে চাইছিলেন সিবিআই৷

এদিন দু-দফায় জেরা করা হয় তাঁকে৷ কিন্তু বেশ কিছু প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সাংসদ-অভিনেতা৷ তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে, সিবিআইয়ের হাতে থাকা তথ্যে বিস্তর অসংগতি ধরা পড়ে৷ বিশেষত আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি৷ অনেক তথ্য গোপন করে গিয়েছিলেন বলেই মনে করছেন তাঁরা৷ নগদ লেনদেনের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি৷ তিনি তথ্য গোপন করছেন বলেই অনুমান গোয়েন্দাদের৷ এরপরই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল৷

সৌজন্যে: সংবাদ প্রতিদিন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *