যে বাড়িতে তৃণমূল নেতা প্রতুল বর্মণকে খুন করা হয়, তার হদিস পেল পুলিশ

বালুরঘাট, ১১ জানুয়ারিঃ বালুরঘাটে তৃণমূল নেতা খুনের তদন্তে ফের মাঝিগ্রাম এলাকায় গেলেন ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সৌমজিৎ বড়ুয়া সহ বালুরঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মাঝিগ্রামের পরেন বর্মণ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে খুন করা হয় প্রতুল বর্মণকে। এর পর তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয় সীমান্ত লাগায়ো ফাঁকা মাঠে। বর্তমানে ওই বাড়ির মালিক পরেন বর্মণ পলাতক। তার বাড়ির ভেতর থেকে রক্ত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ যা থেকে এখানেই প্রতুল বর্মণকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। অন্য দিকে পরেন বর্মণের বাড়ি সিল করে দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তাই ঠিক কি কারণে তৃণমূল নেতা প্রতুল বর্মণকে খুন করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্য দিকে তৃণমূল নেতা প্রতুল বর্মণ খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধৃত প্রসেঞ্জিৎ মণ্ডলকে(২৫) এদিন বালুরঘাট থানায় সিআইডি’র দুই আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে সূত্রের খবর। এই খুনের তদন্তের পুলিশকে সাহায্য করতে সিআইডি আধিকারিকরা এসেছিল বলে জানা গেছে। তবে সিআইডি আসার কথা অস্বীকার করেছেন জেলা পুলিশ আধিকারিকরা।

পুলিশের আরও অনুমান, তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় কমপক্ষে চার পাঁচজন জন জড়িত আছে। পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছিল তাকে। রাতভর পিকনিক ও মদের আসর বসেছিল পরেনের বাড়িতে। সেখানে প্রতুল ছাড়াও চার-পাঁচজন ছিল। মদ্যপ অবস্থায় ঘরের ভেতরে প্রতুলকে খুন করে বাকিরা। খুন করার পর তার মৃতদেহ যাতে কেউ চিনতে না পারে তাই মুখ বিকৃত করে দেওয়া হয়। পরেনের বাড়িতে ঘরের দেওয়ালে ও চৌকিতে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে । ঘটনায় পরেন বর্মণের স্ত্রী ও সন্তানকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পরেন পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশী চলছে। এই নিয়ে তৃণমূল নেতা প্রতুল বর্মণ খুনের ঘটনার তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন ব্যানার্জী জানান, প্রতুল বর্মণ খুনের কিনারা করতে নেমে আর এক ধাপ এগিয়েছি। কোথায় তাকে খুন করা হয়েছিল তা পুলিশ খুঁজে পেয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি খুনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *