আগ্নেয়াস্ত্র পারাপারের নতুন করিডর দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত

হিলি, ১০ জানুয়ারিঃ চোরাকারবারিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পারাপারের নতুন করিডর হিসেবে পরিচিত হিলি সীমান্ত। এক দিকে উন্মুক্ত সীমানা তার উপর সীমান্ত এলাকায় ঘন বসতি থাকায় খুব সহজেই এই পথে পাচার কার্য করে থাকে পাচারকারীরা। গোরু, নিষিদ্ধ কফ সিরাফ, সোনা বা জিরা নয় বর্তমানে হিলি সীমান্ত দিয়ে অবাধে আগ্নেয়াস্ত্র পারাপার হচ্ছে বলেই অভিযোগ।

বিগত দশ দিনের মধ্যে শুধু মাত্র হিলি থানার ত্রিমোহিনী এলাকা থেকে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলো বিএসএফ। শুধু মাত্র বিএসএফ নয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ বিগত দু’মাসে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে। সীমান্ত এলাকা থেকে পর পর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় হিলি সীমান্তকে আগ্নেয়াস্ত্র পারাপারের নতুন করিডর তৈরি করেছে পাচারাকারীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর হিলি সীমান্তকে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের স্বর্গ রাজ্য বানিয়েছে পাচারকারীরা, এমন তথ্য জেলা গয়েন্দা বিভাগের কাছে রয়েছে। এর পরও তেমন ভাবে ভ্রূক্ষেপ নেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের বলে অভিযোগ। তবে সীমান্তে বিএসএফ ও পুলিশ সদা সতর্ক আছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর হিলি থানার ত্রিমোহিনী এলাকা থেকে আগেয়াস্ত্র সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল বিএসএফ। ধৃতের কাছ থেকে একটি বিদেশী(ইতালী)পিস্তল উদ্ধার হয়। এর দশ দিন পরেই গতকাল রাতে ফের গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হিলি থানার ত্রিমোহিনী এলাকা থেকে উত্তম মাহাত(৪৫) নামে ওই ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি বিদেশী(জাপান) পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ছয় রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে বিএসএফ। আগ্নেয়াস্ত্রটি বাংলাদেশে পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান বিএসএফের।

এর পাশাপাশি গত দু’মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ শুধু মাত্র বালুরঘাট থানা এলাকা থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র গুলি ধৃতরা হিলির বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে এনেছিল। মাত্র ১০–২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশী অত্যাধুনিক মানের আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে হিলির সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে। জঙ্গি গোষ্ঠী থেকে দুষ্কৃতীদের নজর হিলি সীমান্তদের দিকেই। অতীতে বহু এমন ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা খুব সহজেই ভারতে প্রবেশ করে নানা সমাজ বিরোধী কাজ করে ফের বাংলাদেশে চলে যাচ্ছে। বিশেষ বিশেষ সময় শুধু সীমান্তে নজরদারীর পাশাপাশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। সেই সময় টুকু পেরলেই যেই কে সেই ফের। এমন অভিযোগও উঠছে পুলিশ প্রশাসন ও বিএসএফের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বিএসএফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের সেকেন্ড ইন কমান্ড ডিএস চৌহান জানান, হিলি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র পারাপার হচ্ছে কি না তা জেলা পুলিশ প্রশাসন ভাল জানাতে পারবে। তবে হিলির ত্রিমোহিনী এলাকায় বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র সহ অন্যান্য সমাজ বিরোধী রোধ করতে ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

অন্য দিকে জেলা পুলিশ সুপার প্রসূন ব্যানার্জী জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অস্ত্র পাচার বেরে যাওয়ায় বিএসএফের পাশাপাশি জেলা পুলিশও বিশেষ ভাবে নজরদারী চালাছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে ও সমাজ বিরোধী কার্য কলাপ রুখতে বিশেষ করে হিলির বিভিন্ন উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকায় রাতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।


You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *